চট্টগ্রাম, , সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮

ছাত্রলীগের অতীত গৌরব এবং ভবিষ্যত্ পথচলা

প্রকাশ: ২০১৮-০৫-১১ ২২:১২:৩৪ || আপডেট: ২০১৮-০৫-১১ ২২:১২:৩৪



প্রশান্ত ভূষন বড়ুয়াঃ
প্রতিষ্ঠার ৭০ বছর পর পেছনে ফিরে তাকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাফল্য ও গৌরবের পাল্লাই ভারী দেখাবে—তাতে সন্দেহ নেই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে যে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক সাংগঠনিক পদক্ষেপ হিসেবে, সময়ের দীর্ঘপরিক্রমায় তা আজ গৌরবময় উচ্চতায় আসীন হয়েছে নিঃসন্দেহে। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের পথচলায় বায়ান্ন এসেছে, ৬২ এসেছে, ৬৬, ৬৯, ৭০-এর পথ ধরে এসেছে একাত্তর। এই সংগঠনটির প্রায় সতের হাজার নেতাকর্মীর আত্মত্যাগ যুক্ত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে।
নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের কয়েক বছরের মধ্যে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের নিকষকালো অন্ধকার জেঁকে বসেছিল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক শক্তির অলিন্দে। পরবর্তী প্রায় দুই যুগব্যাপী ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক তরুণের জীবনে দুঃশাসকের উত্পীড়ন-নিপীড়ন নেমে আসে ঘোর অমানিশা হয়ে। শব্দ-ছন্দ দিয়ে তো বটেই, রক্ত দিয়েও লেখা হয়েছে সংগ্রামের শপথ। শ্লোগানে মুখরিত তরুণ মাহফুজ বাবুসহ অসংখ্য তরুণজীবন বলিদান করেছে গণতন্ত্র এবং পিতাহত্যার শপথের অবিচলিত পথে। সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পথে সংগঠনের তত্কালীন গঠনতান্ত্রিক নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কঠোর-কঠিন সংগ্রামে ছাত্রলীগ পথ চলেছে দুর্বারশক্তিতে। সশস্ত্র হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে অবিচলিত, নির্ভীক নেতা শেখ হাসিনা বইখাতা তুলে দিয়ে ইতিহাসের ধারায় পরিবর্তন এনে দিয়েছেন সেই ১৯৯৪ সালে। শিক্ষা ও শিক্ষা সম্পর্কিত আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় দায়িত্ব পালনে তত্পর থেকেছে প্রাচীন এই সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ও আটানব্বই-এর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রুটি, স্যালাইন প্রকল্পের অবিসংবাদিত চ্যাম্পিয়ন ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিএনপি, জামায়াত জোট সরকারের প্রগতি-শান্তি-গণতন্ত্রবিনাশী প্রতিটি আঘাত সামলে নিতে হয়েছে সংগঠনটিকে। এক/এগারো-পরবর্তী গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন এবং ছাত্র-আন্দোলনে চালকের ভূমিকায় ছাত্রলীগ সচেষ্টা থেকেছে সর্বদা। নিজের সাংগঠনিক, ঐতিহাসিক ও জন্ম মুহূর্তের অঙ্গীকারে অবিচল থাকার ক্ষেত্রে স্থাপন করেছে অনন্য দৃষ্টান্ত।
২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত চালিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের পরিবেশে ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিকূলতাও মোকাবিলা করতে হয়েছে। জাতীয় ইতিহাসের অনেকগুলো সোনালি অর্জনের গর্বিত অংশীদার হয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাফল্য ও গৌরবময় ইতিহাস অভাবিতভাবে অতুলনীয় নিশ্চয়ই। কিন্তু অতীতের গৌরবই কি ভবিষ্যতের পথচলার জন্য যথেষ্ট? সমাজ, সভ্যতার ক্রমাগত অগ্রগমনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংগঠনের যথাযথ আধুনিকায়ন কি হয়েছে? সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন শপথ এবং পরবর্তীকালে রক্তে রাঙা অর্জনগুলো থেকে যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা লব্ধ হয়েছে, তা কি যথার্থই কাজে লাগানো হচ্ছে বর্তমানে?
রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি, সাংগঠনিক শুদ্ধাচার, জাতীয় পর্যায়ের কর্মদক্ষতা তৈরি এবং সমকালীন আন্তর্জাতিক অর্জন বিনিময়ের অপরিহার্য শিক্ষা ও সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ কি হচ্ছে? কেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কোনো কোনো নেতৃবৃন্দ বিসিএস এবং অন্যান্য পরীক্ষায় পরপর তিনবার মৌখিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছেন, তার ব্যাখ্যা ও কারণ কি খোঁজা হচ্ছে? (নিশ্চয়ই এর কারণ তাদের মেধাস্বল্পতা নয়)। ছাত্রলীগের বৈশ্বিক সংগঠনগুলোর আয়োজক সমপ্রদায় (Host Community) এবং আন্তর্জাতিক অডিয়েন্স বা রিডারশিপ অর্জনে কি কোনো ভূমিকা রাখছে? সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ছাত্র ও শিক্ষার অধিকার বা শিক্ষার উত্কর্ষবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে ছাত্রলীগ কি সম্মুখভাগে থাকছে, নাকি পেছনের প্রান্তে চলে যাচ্ছে? বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা এবং দেশরত্ন শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলার অপরিহার্য সামর্থ্য কি অর্জন করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ? ডিজিটাল বাংলা মানে কিন্তু শুধু প্রাযুক্তিক দক্ষতা নয়, মানবিক উত্কর্ষ বা হিউম্যান কোয়ালিটি অর্জনই এর চূড়ান্ত লক্ষ্য।
রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি ও সাংগঠনিক শুদ্ধাচারের মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এবং দক্ষতা ভিত্তিক শিক্ষাবান্ধব সংগঠনের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প নেই। অরাজনৈতিক উপাদানে উত্পীড়িত, কখনো আক্রান্ত রাজনৈতিক সাংগঠনিক বাস্তবতায় এই চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। ছাত্রলীগের আগমনী নেতৃত্ব নিশ্চয়ই নতুনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সদিচ্ছা ও সামর্থ্যের সম্মিলন ঘটাবেন। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সদিচ্ছা প্রণোদিত, যথোপযুক্ত দক্ষ কর্মী তৈরির পাঠশালা হয়ে নিজের গৌরবান্বিত ইতিহাসের নিরন্তর নবায়ন করুন। সংগঠনটিকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদে পরিণত করুন। মানবিক জীবনের চিরবিস্ময় ব্যক্ত হোক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্তরে। নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাই।
n লেখক : আইনের শিক্ষক, আইনজীবী, গবেষক এবং সাবেক সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
prashanta_barua@yahoo.co.uk

আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
9101112131415
23242526272829
30      
   1234
567891011
12131415161718
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728