চট্টগ্রাম, , সোমবার, ২৫ মে ২০২০

ত্রানের ২ লাখ কেজি চালের মিথ্যা তথ্যে রামুতে উস্কানী ছড়ানো হচ্ছে

প্রকাশ: ২০২০-০৫-০৩ ১৫:২০:১৯ || আপডেট: ২০২০-০৫-০৩ ১৫:৩৮:৪৭



সিপি রিপোর্টঃ

রামু উপজেলায় ২ লাখ কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে বলে মিথ্যা দাবী তুলে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে উস্কানী ছড়ানো হচ্ছে। নিয়ম ও নির্দেশনা জেনেও একটি মহল উদ্দেশ্যমূলক ভাবে এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক বলছেন, রামুতে ত্রান বিতরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে উস্কানী ও বিভ্রান্ত মূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিভ্রান্ত ছড়ানো এইসব ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে বিবৃতিও প্রদান করা হয়।

সূত্রে জানা গেছে দুই দিন আগে কক্সবাজার জেলা ত্রাণ সমন্বয় কমিটির সভায় এমপি কমলের তার এলাকায় ত্রান কম দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন।
তিনি বলেন কক্সবাজার জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠালেও, কেন রামুতে দুই লক্ষ কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে, তা জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চান এমপি কমল।

এমপি কমলের এই বক্তব্যটি দ্রুত তার ভক্ত অনুসারীরা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়। কিছু অনলাইনেও তা প্রচার করা হয়। এর পরপরই রামু কেন্দ্রিক কিছু ফেসবুক থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচারকরা হচ্ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের ফেইসবুক পেইজে আজ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রামু উপজেলায় ২ লাখ কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে বলে যা দাবী করা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন।

উপজেলা ভিত্তিক ত্রাণ বরাদ্দে কথিত বৈষম্য প্রসঙ্গে স্পষ্টভাবে জানানো যাচ্ছে যে, করোনা ভাইরাসজনিত আরোপিত বিধি-নিষেধের ফলে সাময়িকভাবে কর্মহীন নাগরিকদের সরকারি ত্রাণ জেলার বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়। কোন উপজেলার বরাদ্দ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়না।

প্রাপ্ত ত্রাণ বিতরনে করোনাভাইরাস পরিস্থিতে সৃষ্ট বিশেষ মানবিক সহায়তা বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, ২০২০ অনুসরণ করা হয়। উক্ত নীতিমালায় উপজেলা ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে আয়তন বা জনসংখ্যা বিবেচনার নির্দেশনা উল্লেখ নেই।

ত্রাণ বিতরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীদের সহায়তায় উপজেলা থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী রামু উপজেলায় ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার উপযোগি পরিবার সংখ্যা ৮৪৫২। রামু উপজেলায় এ পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১১৯ মেট্রিক টন। প্রতি পরিবার ১০ কেজি হিসাবে দিলে ৮৪.৫২ মেট্রিক টনে তালিকার সকলকে একবার করে ত্রাণ সহায়তা দেয়া সম্ভব।
ত্রাণ বিতরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। রামু উপজেলায় ত্রাণ সহায়তা পাওয়ার উপযোগী কোন ব্যক্তি এখনও ত্রাণ না পেয়ে থাকলে তার তালিকা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট জমা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রামু উপজেলায় ২ লাখ কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে বলে যা দাবী করা হচ্ছে তা সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন। এটি চলমান ত্রাণ বিতরণে জেলা প্রশাসনের আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ও সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টামাত্র।
সম্মানিত কক্সবাজারবাসী, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী যে সর্বাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে তার অংশ হিসাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন শুরু থেকেই নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিদেশ-ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা, জেলার বাইরে থেকে জনগনের প্রবেশ বন্ধ তথা লকডাউন বাস্তবায়ন করা, অভাবী মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌছে দেয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারি কমিশনার ( ভূমি) সহ বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ, পুলিশ, সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, আনসার বাহিনীর সদস্যবৃন্দ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়ার কাজে নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সকল প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন তাদের পাশে রয়েছে। ঘরে বসে নাগরিকগণ যেন প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারেন সেজন্য ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। জেলার সম্মানিত জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, রাজনীতিবিদবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, ছাত্রসমাজ, স্বেচ্ছাসেবক এবং সরকারি কর্মচারীরা একসাথে কাজ করছে। এহেন অবস্থায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিভাজন ও বিতর্ক সৃষ্টির অপচেষ্টা অনাকাঙ্ক্ষিত।
জনগনের এই সংকটকালে আমরা সকলকে সাথে নিয়ে এক সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। জেলা প্রশাসন কক্সবাজার এ জেলার প্রতিটি মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও যত্নবান। জেলা প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত যেকোন পদক্ষেপ সম্পর্কে বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা বা মতামত আমরা সাদরে গ্রহণ করি। কিন্তু বর্ণিত পোষ্টে জেলা প্রশাসকের ছবি ব্যবহার করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অগ্রহণযোগ্য।
এরপরও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে জেলা প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টা অব্যাহত থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031 
       
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
9101112131415
23242526272829
30      
   1234
567891011
12131415161718
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728