চট্টগ্রাম, , মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এপ্রিলেই মহাকাশে যাত্রা করবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

প্রকাশ: ২০১৮-০৩-০৫ ০৭:৩৫:৩৩ || আপডেট: ২০১৮-০৩-০৫ ০৭:৩৫:৩৩



সিপি ডেস্ক ♦
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে মহাকাশে যাত্রা করবে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’। ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে অবস্থিত স্পেস এক্স-এর লঞ্চ প্যাড থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। শনিবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ছিলেন। কনসাল জেনারেল শামীম আহমেদ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করেন।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হচ্ছে ১৫৪৪ কোটি টাকা, বাকি ১৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফিনান্সিং এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিটিআরসি যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল’কে ২০১২ সালের ২৯ মার্চ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অনুসারে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের অরবিটল স্লট ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে ক্রয় করা হয়।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশের স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ভি-স্যাট ও ইত্যাদি সংস্থা বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন স্যাটেলাইট অপারেটরের কাছ থেকে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপন্ডার ভাড়া বাবদ প্রতি বছর প্রায় ১৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার ব্যয় করে থাকে। অনুমোদন পাওয়া আরও স্যাটেলাইট চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হলে এ ভাড়া আরও বাড়বে। শুধু ব্রডকাস্টিং চাহিদার পূরণে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে এ অর্থ দেশেই রাখা সম্ভব হবে। অন্যদিকে স্যাটেলাইটের অব্যবহৃত তরঙ্গ ভাড়া দিয়ে আরো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সম্প্রচার সেবার প্রসার সহজ এবং বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। এছাড়া দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হলে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া ছাড়াই প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক কম মূল্যে ব্রডকাস্টিং সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ট্রান্সপন্ডার বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্পেশ এক্স’ এর উৎক্ষেপণযান বা রকেট ফ্যালকন-৯ এই স্যাটেলাইটটিকে মহাকাশে ১১৯.১º পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অবস্থিত অরবিটল স্লটে স্থাপিত করবে। আর এর মাধ্যমে নিজস্ব স্যাটেলাইটের অধিকারী ৫৭তম গর্বিত দেশ হিসেবে বিশ্ব সভায় বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজ ফ্রান্সের কান ও টুলুস ফ্যাসিলিটিতে (কারখানায়) ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম স্বনামধন্য স্যাটেলাইট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থ্যালেস এলেনিয়া স্পেস গত ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘টার্ন কি পদ্ধতি’ চুক্তির আওতায় কৃত্রিম উপগ্রহটি নির্মাণের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। এটি খুব শীঘ্র ফ্রান্স থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কার্গো বিমানে উৎক্ষেপণ স্থান ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরাল আনা হচ্ছে।

প্রকল্পের ২য় বৃহৎ অংশটি হল লঞ্চ প্যাড থেকে ফ্যালকন-৯ রকেট দিয়ে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ। রকেট প্রস্তুতকারী ও উৎক্ষেপণকারী বিখ্যাত মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘স্পেশ এক্সপ্লোরেশন টেকনোলিজস কর্প’ রকেট নির্মাণের কাজটি শেষ করেছে। ফ্রান্সের থ্যালেসের তৈরি স্যাটেলাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্স এর তৈরি রকেট ও সময়সূচি অনুসারে মহাকাশে যাত্রা করবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাইমারী এবং রাঙ্গামাটি জেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে সেকেন্ডারি গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে।

এই কৃত্রিম উপগ্রহটি উৎক্ষেপণের পর সেটি পরিচালনা, এর বিভিন্ন সুবিধার সফল ব্যবহার, বাণিজ্যিকভাবে এর ট্রান্সপন্ডার বাজারজাতকরণ ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য ইতোমধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ‘বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানী গঠন করা হয়েছে। কোম্পানিতে কারিগরি লোকবল নিয়োগও করা হয়েছে এবং লোকবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।


আর্কাইভ

MonTueWedThuFriSatSun
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
       
      1
2345678
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
9101112131415
23242526272829
30      
   1234
567891011
12131415161718
       
   1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728